সোমবার | ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | দুপুর ১২:৪১
শিরোনাম :
কাঁচামালের বাড়তি দামে চাপে বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ‘বিশ্ব প্যাকেজিং দিবস’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উন্মাদনায় টি.কে. গ্রুপের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্যাকেজিং প্রদর্শনী WEPSEA 2026-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিং (BIP) ইন্টারন্যাশনাল প্যাকেজিং প্রেস অর্গানাইজেশন (IPPO)-এর পূর্ণ সদস্য হলেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম আখ থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বোতল জার্মানির ডুসেলডর্ফে interpack 2026 চলাকালে অনুষ্ঠিত হলো WPO–এর ১১৫তম বোর্ড মিটিং International Packaging Press Organization–এর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন Interpack 2026–এ জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য ১১৫তম WPO বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন BIP সভাপতি মোশাররফ হোসেন ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্যাকেজিং প্রদর্শনী শুরু ৭ মে
প্লাস্টিক খেকো কীটের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা, মিলছে সম্ভাব্য সমাধান

প্লাস্টিক খেকো কীটের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা, মিলছে সম্ভাব্য সমাধান

বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা একটি আশাব্যঞ্জক সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ওয়াক্স মথ (Galleria mellonella) নামক একটি কীটের বিশেষ ধরনের এনজাইমের মাধ্যমে প্লাস্টিক ভাঙা সম্ভব, যা পরিবেশের জন্য এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

২০১৭ সালে বিজ্ঞানী ফেদেরিকা বার্টোচিনি প্লাস্টিক ভাঙতে সক্ষম এই কীটটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ওয়াক্স মথ সাধারণত মৌচাকের মধ্যে দেখা যায় এবং মৌমাছিদের জন্য ক্ষতিকর হলেও, ফেদেরিকা একদিন দেখতে পান যে এই কীটের মুখে প্লাস্টিকের ব্যাগে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হচ্ছে। এটি তাঁর জন্য একটি “ইউরেকা” মুহূর্ত ছিল, যেহেতু তিনি বুঝতে পারেন, কীটটি এমন কিছু করছে যা বিজ্ঞানীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল—প্লাস্টিক ভাঙা।

ফেদেরিকা এবং তাঁর দলের গবেষণায় জানা যায়, এই কীটের লালায় দুটি বিশেষ এনজাইম—সেরেস এবং ডিমিটার—প্লাস্টিকের পলিথিনকে অক্সিডাইজ করে এবং এটিকে ভেঙে ফেলে। এর ফলে প্লাস্টিক খাদক এই কীটটি পরিবেশের জন্য একটি দারুণ আশাব্যঞ্জক আবিষ্কার হয়ে ওঠে।

এখন, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার একটি বড় অংশ জলজ বাস্তুতন্ত্রে চলে যায়। এসব প্লাস্টিক সাধারণত শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত ভাঙতে সময় নেয়। কিন্তু এই কীট এবং এর এনজাইমের মাধ্যমে, বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পরিবেশকে রক্ষা করতে এক নতুন দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে, ফেদেরিকা বার্টোচিনি ফ্রান্সের একটি বায়োরিসার্চ স্টার্টআপ, প্লাস্টিসেনট্রপি-র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। তার প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক ভাঙতে এনজাইম ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “এই এনজাইমগুলি প্লাস্টিক বর্জ্যে প্রয়োগ করে পরিবেশের সমস্যা সমাধান করতে পারবে।”

এছাড়া, সম্প্রতি একটি নতুন অমেরুদণ্ডী প্রাণী, সুপারওয়ার্ম (Zophobas morio), প্লাস্টিকের পলিস্টাইরিন খাবার হিসেবে হজম করে ওজন বাড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। এরকম বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ৩০,০০০ এর বেশি এনজাইম খুঁজে পেয়েছেন, যা প্লাস্টিক ভাঙতে সহায়তা করতে পারে।

এই আবিষ্কার শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্যই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই, ওয়াক্স মথ এবং অন্য প্লাস্টিক খেকো প্রাণীদের সাহায্যে একটি পরিষ্কার এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

 

শেয়ার করুন





Translate Site »