বুধবার | ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | বিকাল ৫:৫৭
শিরোনাম :
খাদ্য অপচয় কমাতে প্যাকেজিংয়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? কাঁচামালের বাড়তি দামে চাপে বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ‘বিশ্ব প্যাকেজিং দিবস’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উন্মাদনায় টি.কে. গ্রুপের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্যাকেজিং প্রদর্শনী WEPSEA 2026-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিং (BIP) ইন্টারন্যাশনাল প্যাকেজিং প্রেস অর্গানাইজেশন (IPPO)-এর পূর্ণ সদস্য হলেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম আখ থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বোতল জার্মানির ডুসেলডর্ফে interpack 2026 চলাকালে অনুষ্ঠিত হলো WPO–এর ১১৫তম বোর্ড মিটিং International Packaging Press Organization–এর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন Interpack 2026–এ জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য ১১৫তম WPO বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন BIP সভাপতি মোশাররফ হোসেন
খাদ্য অপচয় কমাতে প্যাকেজিংয়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

খাদ্য অপচয় কমাতে প্যাকেজিংয়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

প্লাস্টিক প্যাকেজিং পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ—তবে টেকসই প্যাকেজিং নিয়ে আলোচনায় শুধু প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর বিষয়টি দেখলেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। খাদ্য সুরক্ষা, পরিবহন, শক্তি ব্যবহার এবং খাদ্য অপচয়—সবকিছুকেই বিবেচনায় নিতে হবে বলে মনে করছেন প্যাকেজিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্টরা।

ধরা যাক, একটি খাদ্যপণ্য সুরক্ষিত রাখতে ১০০ কেজি খাবারের জন্য ১ কেজি প্যাকেজিং প্রয়োজন। অন্যদিকে, কোনো বিকল্প প্যাকেজিংয়ে ২ কেজি উপাদান ব্যবহার হলেও সেটি যদি ২০ কেজি খাদ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে, তাহলে কোন ব্যবস্থাটি পরিবেশের জন্য বেশি টেকসই—তার উত্তর সরাসরি দেওয়া সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেজিংয়ের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কতটা উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, প্যাকেজিং উৎপাদনে কত শক্তি প্রয়োজন, পরিবহনে এর প্রভাব, খাদ্যকে কতটা কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়া যাচ্ছে এবং ব্যবহারের পর প্যাকেজিংয়ের কী হচ্ছে।

বিশেষ করে হালকা ওজনের প্লাস্টিক প্যাকেজিং অনেক ক্ষেত্রে কম পরিবহন-শক্তি ব্যবহার করতে পারে এবং খাদ্যের সংরক্ষণকাল বাড়িয়ে খাদ্য অপচয় কমাতে পারে। ফলে শুধু “প্লাস্টিক বনাম প্লাস্টিকবিহীন” এই তুলনার মাধ্যমে টেকসই সমাধান নির্ধারণ করা সবসময় যথেষ্ট নয়।

প্যাকেজিং শিল্পে তাই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে লাইফ-সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট (LCA) বা পুরো জীবনচক্রের ভিত্তিতে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন। অর্থাৎ কাঁচামাল উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং তৈরি, পরিবহন, ব্যবহার এবং ব্যবহারের পর ব্যবস্থাপনা—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

টেকসই প্যাকেজিংয়ের ভবিষ্যৎ তাই শুধু কম প্লাস্টিক ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—কম সম্পদ ব্যবহার করে খাদ্যকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া, খাদ্য অপচয় কমানো এবং ব্যবহারের পর প্যাকেজিংয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, প্যাকেজিং প্রযুক্তি ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব—এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বয়ই ভবিষ্যতের আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লেখক:
সাব্বির আহমেদ
ফুড টেকনোলজিস্ট

শেয়ার করুন





Translate Site »