বুধবার | ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | রাত ১:০৭
শিরোনাম :
বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক প্যাকেজিং পরিবেশবান্ধব সরকারের প্লাস্টিক খাতে ১৫% বছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিংয়ের বাজার প্রতিবছরের ন্যয় এবারও শুরু হচ্ছে প্লাস্টিক, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং (IPF) মেলা। সাফিউস সামি আলমগীর জিতেছেন এফবিসিসিআই বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্লাস্টিক ধ্বংসের উপাদান প্রকৃতিতে পাওয়া গেল দূষণরোধে বান্দরবানে এবার প্লাস্টিক বোতলের নৌকা! বাংলাদেশে প্লাস্টিক শিল্পের বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে – বেঙ্গল ডিরেক্টর পরিবেশের সুরক্ষায় প্লাস্টিকপণ্য পুনঃব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ে জোর দিচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএল মান নিয়ন্ত্রনে টেস্টিং মেশিন
৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিংয়ের বাজার

৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিংয়ের বাজার

২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিংয়ের বাজার ছিল ২৬৫ বিলিয়ন ডলারের; ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মানুষের সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্যাকেটজাত ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। একই জিনিস ক্রেতারা এখন খোলা কেনার চেয়ে প্যাকেটজাত কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফলে দেশে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিংয়ের বাজার বড় হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশে বর্তমানে এ খাতের বাজারের আকার ৬ হাজার কোটি টাকা। যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জড়িত। স্থানীয় চাহিদা প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন। যার ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে দেশীয় কোম্পানি। ২০% আমদানি করা হচ্ছে; যা ওষুধখাতে ব্যবহার হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, “মানুষ যত সচেতন হচ্ছে, প্যাকেটজাত হাইজেনিক পণ্যের চাহিদা তত বাড়ছে। আমাদের সক্ষমতা রয়েছে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার। তবে কিছু অংশ এখনও আমদানি হচ্ছে ওষুধ খাতে। এলডিসি সুবিধা শেষ হলে ওষুধ কোম্পানিগুলোও লোকাল পণ্য নিবে। তখন এর বাজার আরো বাড়বে।”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১৯৭৮ সালে দেশে প্রথম ফ্লেক্সিবল ফয়েলের পণ্য উৎপাদন শুরু হলেও এ খাত সেভাবে বাড়েনি। এ ধরণের পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করে ২০০০ সালের পর থেকে। নতুন নতুন কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ শুরু করে। তবে ২০০৭-০৮ থেকে খাতটির প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০% হারে বাড়ছে।
ছোট-বড় মিলে ১০০ কোম্পানি রয়েছে যারা ফ্লেক্সিবল ফয়েলের পণ্য উৎপাদন করে থাকে। এর মধ্যে ৭ থেকে ৮টি বড় কোম্পানির হাতে বাজারের ৫০% শেয়ার।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময়ে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর শিল্পটি এখন প্রায় ৮০% স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে। শিল্পকে কাঁচামাল দিয়ে সহযোগিতা করতে আকিজ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছে ১০০০ কোটি টাকার ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ কারখানা।
বাজারে আকিজের প্রধান সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে আরবাব পলি প্যাক লিমিটেড, ফেমাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মার্চেন্ট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিক লিমিটেড, শাজিনাজ এক্সিমপ্যাক, মেঘনা প্যাকেজিং, আর-প্যাক বাংলাদেশ এবং মোহনা প্যাকেজ ইত্যাদি।
কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো নন-রিজিড উপকরণ দিয়ে তৈরি ফ্লেক্সিবল প্যাকেজগুলো তাদের ‘কাস্টমাইজড’ এবং সহজে পরিবর্তনশীল আকারের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং প্রস্তুতকারকদের কাঁচামাল হিসাবে পলিথিন, পলিয়েস্টার, নাইলন, ফিল্ম ফয়েল ল্যামিনেশন এবং ইনক প্রয়োজন। এর ৮০%-ই আমদানি করা হয়, স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল মেলে কেবল ২০%।
উৎপাদকরা জানিয়েছেন, তারা চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের দেশগুলো থেকে এসব পণ্য আমদানি করে থাকেন।

আকিজের প্যাকেজিং কনসার্ন আকিজ বিয়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের দাবি, তারা স্থানীয় কাঁচামালের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আকিজ বিয়াক্স লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন্স) এম হোসেন ইরাজ বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল সরবরাহ করতে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে রপ্তানিও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।”
তিনি বলেন, “কোম্পানিটির উৎপাদনকৃত কাঁচামাল স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পারবে। তবে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং ট্যাক্স সুরক্ষার অভাবে কোম্পানিটি তার পুরো উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।
স্ট্যাটিস্টার ডেটা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে আনুমানিক ৪৬০ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। প্যাকেজিং এর প্রায় ৩১%, যা একে বৃহত্তম প্লাস্টিক-কনজ্যুমিং সেগমেন্টে পরিণত করেছে।
২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিংয়ের বাজার ছিল ২৬৫ বিলিয়ন ডলারের; ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের প্রথম প্যাকেজিং-নির্মাণকারক টাম্পাকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিউস সামি আলমগীর স্থানীয়দের জন্য বিপুল রপ্তানির সম্ভাবনা দেখেন। প্রাণ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং নেসলে সহ ৯টি সেগমেন্টে ৪৮৫টি পণ্যের প্যাকেজিং আইটেম তৈরি করে থাকে টাম্পাকো।

বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কোম্পানিটির ৮% থেকে ১০% মার্কেট শেয়ার রয়েছে। তবে সাফিউস সামি জানান, তারা এখনো সরাসরি রপ্তানি শুরু করতে পারেন নি।
তিনি বলেন, “বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে আমাদের নীতিগত সমর্থন এবং সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।”

শেয়ার করুন





Translate Site »