সোমবার | ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | রাত ৩:৪৮
শিরোনাম :
আখ থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বোতল জার্মানির ডুসেলডর্ফে interpack 2026 চলাকালে অনুষ্ঠিত হলো WPO–এর ১১৫তম বোর্ড মিটিং International Packaging Press Organization–এর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন Interpack 2026–এ জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য ১১৫তম WPO বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন BIP সভাপতি মোশাররফ হোসেন ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্যাকেজিং প্রদর্শনী শুরু ৭ মে ঢাকায় শুরু হলো ৯ম Food Bangladesh International Expo 2026 বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিং (BIP) কর্তৃক প্যাকেজিং শিল্পে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার আয়োজন ProPak Asia 2026-এ নতুন মাইলফলক: বাংলাদেশ থেকে অফিসিয়াল ডেলিগেশন ও প্রোমোশন পার্টনার BIP শেনঝেনে WEPACK 2026-এ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি: অফিসিয়াল ডেলিগেশন ও প্রমোশন পার্টনার হিসেবে অংশ নিল BIP বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার WEPACK 2026–এর ডেলিগেশন ও প্রমোশন পার্টনার হিসেবে মনোনীত হলো BIP
প্লাস্টিক রিসাইকেল করে তুলা তৈরি হচ্ছে, জানুন কিভাবে

প্লাস্টিক রিসাইকেল করে তুলা তৈরি হচ্ছে, জানুন কিভাবে

প্লাস্টিক বোতল থেকে ফাইবার তৈরীর ব্যবসা: পরিবেশ রক্ষা বৈদেশিক মুদ্রা আয়

পানি খাওয়ার পর যে বোতলটি বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, সেই প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফাইবার। এই ফাইবার দিয়ে সুতা বানিয়ে রং-বেরঙের পলেস্টার কাপড় তৈরি হচ্ছে। এই তুলা আবার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রি-সাইকেল পদ্ধতিতে তুলা তৈরির এই অভিনব কাজটি এখন দেশেই হচ্ছে।

ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের পানিয়াশাইলে চীনা প্রযুক্তির একটি কারখানা তৈরি হয়েছে। এই কারখানাটিতে গত কয়েক মাস ধরে প্লাস্টিক পেট বোতল দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ টন তুলা উত্পাদন করা হচ্ছে। চীন, ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে এ ধরনের কারখানা থাকলেও বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে ফাইবার উৎপাদন এটিই প্রথম কারখানা।

পানি খাওয়ার পর ফেলে দেওয়া স্বচ্ছ বোতল সংগ্রহ করা হয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। এই পেট বোতল ছোট ছোট করে কেটে ফ্লেক্স তৈরি করা হয়। এরপর গরম পানি দিয়ে সেই ফ্লেক্স ধোয়া হয়। উচ্চ তাপ ও চাপে সেই ফ্লেক্স আট ঘণ্টা বায়ু নিরোধক ড্রামে রাখা হয়। ভ্যাকুয়াম ড্রামে তাপ দেওয়ার পর তৈরি হয় পেস্ট। সেই পেস্ট স্পিনারেট দিয়ে স্নাইবার করা হয়। এরপর তা সূক্ষ্ম সুতার আকারে বেরিয়ে আসে। ওই সুতা আবার বিভিন্ন আকারের কাটিং করে মেশিনে ঢোকানোর পর পলেস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পি.এস.এফ) হিসেবে সাদা তুলা বেরিয়ে আসে।

উৎপাদন রপ্তানি:

উৎপাদন তুলা বাজারে বিক্রি করা কার্পাস তুলার মতই মোলায়েম ও মসৃণ। প্লাস্টিক বোতল থেকে তুলা তৈরির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রপ্তানির উদ্দেশ্যে মেশিনেই তা প্যাকেজিং করা হয়। এ থেকে সুতার মতো যে বর্জ্য বের হয় সেটিও আবার রি-সাইকেল পদ্ধতিতে তুলা তৈরিতে ব্যবহূত হয়।

জানা গেছে, এ ধরনের তুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চীনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। আগে চীন কাঁচামাল হিসেবে সরাসরি প্লাস্টিক পেট বোতল আমদানি করে নিজেরাই এ ধরনের তুলা উৎপাদন করত। সম্প্রতি দেশটি প্লাস্টিক বোতল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে এখন ফিনিশড পণ্য হিসেবে ফাইবার বা পি.এস.এফ. আমদানি করছে দেশটি। এ কারণে রপ্তানি পণ্য হিসেবে এ ধরণের পি.এস.এফ তুলার কদর বাড়ছে।

কারখানার উদ্দেশ্য ভবিষ্যত পরিকল্পনা:

এমডি আবুল কালাম মোহাম্মদ মূসা বলেন, এ ধরনের কারখানা গড়ার পেছনে দুটো উদ্দেশ্য কাজ করেছে। প্রথমত, ফাইবার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে প্লাস্টিকের ফেলে দেওয়া বোতল ব্যবহার করায় পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ ফাইবার বানাতে যে ধরনের বোতল ব্যবহৃত হয় তা মাটির সঙ্গে মেশে না। ফলে পরিবেশের ব্যাপক দূষণ করে এটি। সেজন্য পরিবেশ সুরক্ষায় ফেলে দেওয়া এই বোতল কারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে কাঁচামাল হিসেবে।

দ্বিতীয়ত, এই বর্জ্য থেকে উৎপাদিত ফাইবার বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারখানার কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম স্থাপিত এ ধরনের কারখানা থেকে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন তুলা উৎপাদিত হচ্ছে, যা শিগগিরই ৮০ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। প্রতি কেজি পি.এস.এফের রপ্তানি মূল্য এক ডলার হলেও দৈনিক প্রায় ৮০ হাজার ডলারের তুলা উৎপাদনে সক্ষম ওই কারখানাটি।

তবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটিতে সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কারখানার কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রযুক্তির কারখানাটি স্থাপনের পর কাঁচামাল সংগ্রহসহ দেশীয় বাজারে উৎপাদিত তুলার যথাযথ মূল্য না থাকায় এটি অলাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সরকার পেট বোতল ফ্লেক্স রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে ভর্তুকি দিচ্ছে। কারখানা সংশ্লিষ্টরা পেট বোতল ব্যবহার করে ফাইবার উৎপাদন করার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন করছেন। ফলে এই খাতে তারা ২০ শতাংশ রপ্তানি ভর্তুকির সুযোগ চান সরকারের কাছে।

এবং, আবুল কালাম মোহাম্মদ মূসা বলেন, “আমাদের উৎপাদিত ফাইবারের চাহিদা বিদেশে থাকলেও দেশে এখনো সে ধরনের চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে যথাযথ মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সরকার রপ্তানি ভর্তুকি দিলে সম্ভাবনাময় এই শিল্প খাতের বিকাশ ঘটবে। এতে ফেলে দেওয়া বর্জ্য ব্যবহার করে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পে।”

 

শেয়ার করুন





Translate Site »