প্লাস্টিক প্যাকেজিং পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ—তবে টেকসই প্যাকেজিং নিয়ে আলোচনায় শুধু প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর বিষয়টি দেখলেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। খাদ্য সুরক্ষা, পরিবহন, শক্তি ব্যবহার এবং খাদ্য অপচয়—সবকিছুকেই বিবেচনায় নিতে হবে বলে মনে করছেন প্যাকেজিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্টরা।
ধরা যাক, একটি খাদ্যপণ্য সুরক্ষিত রাখতে ১০০ কেজি খাবারের জন্য ১ কেজি প্যাকেজিং প্রয়োজন। অন্যদিকে, কোনো বিকল্প প্যাকেজিংয়ে ২ কেজি উপাদান ব্যবহার হলেও সেটি যদি ২০ কেজি খাদ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে, তাহলে কোন ব্যবস্থাটি পরিবেশের জন্য বেশি টেকসই—তার উত্তর সরাসরি দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেজিংয়ের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কতটা উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, প্যাকেজিং উৎপাদনে কত শক্তি প্রয়োজন, পরিবহনে এর প্রভাব, খাদ্যকে কতটা কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়া যাচ্ছে এবং ব্যবহারের পর প্যাকেজিংয়ের কী হচ্ছে।
বিশেষ করে হালকা ওজনের প্লাস্টিক প্যাকেজিং অনেক ক্ষেত্রে কম পরিবহন-শক্তি ব্যবহার করতে পারে এবং খাদ্যের সংরক্ষণকাল বাড়িয়ে খাদ্য অপচয় কমাতে পারে। ফলে শুধু “প্লাস্টিক বনাম প্লাস্টিকবিহীন” এই তুলনার মাধ্যমে টেকসই সমাধান নির্ধারণ করা সবসময় যথেষ্ট নয়।
প্যাকেজিং শিল্পে তাই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে লাইফ-সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট (LCA) বা পুরো জীবনচক্রের ভিত্তিতে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন। অর্থাৎ কাঁচামাল উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং তৈরি, পরিবহন, ব্যবহার এবং ব্যবহারের পর ব্যবস্থাপনা—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
টেকসই প্যাকেজিংয়ের ভবিষ্যৎ তাই শুধু কম প্লাস্টিক ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—কম সম্পদ ব্যবহার করে খাদ্যকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া, খাদ্য অপচয় কমানো এবং ব্যবহারের পর প্যাকেজিংয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, প্যাকেজিং প্রযুক্তি ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব—এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বয়ই ভবিষ্যতের আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লেখক:
সাব্বির আহমেদ
ফুড টেকনোলজিস্ট
আইটি সহায়তাঃ টোটাল আইটি সলিউশন