সোমবার | ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | সকাল ১১:৪২
শিরোনাম :
জার্মানির ডুসেলডর্ফে interpack 2026 চলাকালে অনুষ্ঠিত হলো WPO–এর ১১৫তম বোর্ড মিটিং International Packaging Press Organization–এর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন Interpack 2026–এ জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য ১১৫তম WPO বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন BIP সভাপতি মোশাররফ হোসেন ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্যাকেজিং প্রদর্শনী শুরু ৭ মে ঢাকায় শুরু হলো ৯ম Food Bangladesh International Expo 2026 বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিং (BIP) কর্তৃক প্যাকেজিং শিল্পে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার আয়োজন ProPak Asia 2026-এ নতুন মাইলফলক: বাংলাদেশ থেকে অফিসিয়াল ডেলিগেশন ও প্রোমোশন পার্টনার BIP শেনঝেনে WEPACK 2026-এ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি: অফিসিয়াল ডেলিগেশন ও প্রমোশন পার্টনার হিসেবে অংশ নিল BIP বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার WEPACK 2026–এর ডেলিগেশন ও প্রমোশন পার্টনার হিসেবে মনোনীত হলো BIP বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ: সময়ের দাবি ও পরিবেশ রক্ষার কার্যকর সমাধান
বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ: সময়ের দাবি ও পরিবেশ রক্ষার কার্যকর সমাধান

বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ: সময়ের দাবি ও পরিবেশ রক্ষার কার্যকর সমাধান

Md. Mahabubul Hasan Business Head BRAC Green Packaging

পলিথিন দূষণ বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ব্যবহৃত লক্ষ লক্ষ পলিথিন শপিং ব্যাগ আমাদের নদী, খাল, নালা, মাটি ও কৃষিজমিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই সংকটময় বাস্তবতায় বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ পরিবেশ রক্ষার একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রচলিত পলিথিন ব্যাগ সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ বছর পর্যন্ত মাটিতে অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ প্রাকৃতিক উপাদান যেমন—স্টার্চ, ভুট্টা, আখ, ক্যাসাভা বা অন্যান্য জৈব উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জীবাণুর মাধ্যমে পচে গিয়ে প্রকৃতিতে মিশে যায়।
বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ ব্যবহারের অন্যতম প্রধান প্রয়োজনীয়তা হলো পরিবেশ দূষণ হ্রাস। এসব ব্যাগ মাটিতে পচে গিয়ে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে না। ফলে মাটি, পানি ও খাদ্যচক্র নিরাপদ থাকে। বিশেষ করে নদী ও সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিক থেকেও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পলিথিন ব্যাগে বহন করা গরম খাবার বা কাঁচা সবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ সাধারণত খাদ্য-বান্ধব (food grade) হওয়ায় এ ধরনের ঝুঁকি অনেক কম।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ সম্ভাবনাময় একটি খাত। স্থানীয়ভাবে এসব ব্যাগ উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বায়োডিগ্রেডেবল ও রিইউজেবল ব্যাগ ব্যবহারে আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে।
তবে শুধু বিকল্প থাকলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা ও নীতিগত প্রয়োগ। সরকার, ব্যবসায়ী, সুপারশপ ও সাধারণ ভোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। দোকানে বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, কর ছাড় দেওয়া এবং জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ আরও জোরদার করা যেতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে বায়োডিগ্রেডেবল শপিং ব্যাগ একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র। আজকের সচেতন সিদ্ধান্তই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে। প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়তে এখনই সময় বায়োডিগ্রেডেবল বিকল্প গ্রহণ করার।

শেয়ার করুন





Translate Site »